গত ২৮ মার্চ জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, টোকিও শহরের কেন্দ্রে বসন্তের আগাম বার্তা দেয়া বেঞ্চমার্ক চেরি গাছগুলো (সোমেই ইয়োশিনো) এবার পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ এ দৃশ্য উপভোগ করতে জাপানজুড়ে স্থানীয় পরিবার ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভিড় জমতে শুরু হয় প্রতি বছরই। তবে এবারের উৎসবে আনন্দের পাশাপাশি ছাপ ফেলেছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির দুশ্চিন্তা। সম্প্রতি পরিচালিত এক অনলাইন জরিপ অনুযায়ী, জাপানিরা এবারের চেরি ব্লসম উৎসব বা সাকুরা দেখার বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে। জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে সাকুরা দেখার জন্য একজন ব্যক্তি গড়ে ৬ হাজার ৩৮৩ ইয়েন খরচ করার পরিকল্পনা করছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণেই বিনোদনের বাজেটে এ টান পড়েছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে টোকিওভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনটেজ। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন উৎসবের খরচ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় এ বাজেট ২ হাজার ৭৩৭ ইয়েন পর্যন্ত নেমে যায়, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ক্রমান্বয়ে বেড়ে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ইয়েনে ওঠে। জরিপে এক নতুন সামাজিক প্রবণতাও উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ জানায়, তারা এবার একাই চেরি ফুল দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ‘একাকী’ বা ‘সোলো’ সাকুরা দেখার প্রবণতা জাপানে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইনটেজের কর্মকর্তা আরো জানান, মানুষ এখন নিজের সময়মতো অফিস যাওয়া বা ফেরার পথে একা চেরি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এটি এখন একটি স্থায়ী রীতিতে পরিণত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় একা সাকুরা দেখতে যাওয়ার হার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাপানিদের জীবনে চেরি ব্লসম কেবল একটি ফুল নয়, বরং এটি নতুন শুরু এবং জীবনের বিশেষ একটি অংশ। তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি জাপানিদের প্রিয় উৎসবেও মিতব্যয়ী হতে বাধ্য করছে। সাকুরার রঙের মোহে যখন জাপানের আকাশ-বাতাস আচ্ছন্ন, তখন সাধারণ মানুষের বাজেটের হিসাব-নিকাশ জানান দিচ্ছে আগামীর কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা।
খবর জাপান টাইমস